onurag.com https://www.onurag.com/2021/04/bangladeshifestival.html

বাংলাদেশের উৎসব রচনা।

বাংলাদেশের উৎসব রচনা।

বাংলাদেশের উৎসব রচনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি রচনা। নিচে এই রচনাটি লিখা হলো। এটি কয়েকটি ধাপ অনুসারে লিখা। বাংলাদেশের উৎসব রচনাটির উল্লেখিত বিষয়সমূহও নিম্নে উলেখ করা হলো ও রচনাটি লিখা হলো।
বাংলাদেশের উৎসব রচনা।
বাংলাদেশের উৎসব রচনা।

    ভূমিকাঃ

    আমাদের এই দেশ একটি প্রাচীন সভ্যতাপূর্ণ একটি দেশ। আমাদের দেশের বিভিন্ন সংস্কৃতি রয়েছে। উৎসবও আমাদের দেশের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর মধ্যে নিহিত থাকে একটি জনপদের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ঐ এলাকার মানুষের বিশ্বাস ও ভালো-মন্দ লাগার উপাদান। কোন দেশ বা অঞ্চল সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রথমে জানতে হবে ওই অঞ্চলের সংস্কৃতি সম্পর্কে। এর মধ্য দিয়ে সে অঞ্চল সম্পর্কে অর্ধেক ধারণা লাভ করা যায়। আমাদের দেশে নানান উৎসবের প্রচলন আছে। বেশিরভাগই বিভিন্ন ঋতুকে কেন্দ্র করে। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব। এসকল বিভিন্ন উৎসব আমাদের প্রাণে আনন্দের সঞ্চার করে পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে।
    নিচে কয়েকটি উৎসব সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ

    বাংলা বর্ষবরণঃ

    বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার্বজনীন উৎসব হলো বাংলা বর্ষবরণ যা আমাদের কাছে "পহেলা বৈশাখ" নামে পরিচিত। পুরানো দিনের দুঃখ, ব্যথা, গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব বলা হয় এটিকে। এইদিন চারদিকে শুধু শোনা যায়,
                                                           

    "এসো হে বৈশাখ, এসো এসো। 

    তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে, 

    বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক। 

    এসো এসো।"


    সকল ধর্ম-বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষেরা এই উৎসব পালন করে থাকে। এই উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও মেলার আয়োজন করা হয়। এইদিন অনেক মজাদার খাবারের আয়োজন করা হয়। এই দিনে হালখাতা করা হয় অর্থাৎ দোকানে সকল পাওয়া পরিশোধ করে নতুন খাতা খোলা হয়। রাজধানী ঢাকায় আড়ম্বরে পালন করা হয় মঙ্গল শভাযাত্রা। রমনার বটমূলে আয়োজন করা হয় বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

    ঈদঃ

    ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। ঈদ মানে খুশি, আনন্দ। ঈদ আসে আনন্দের বার্তা আর মিলনের বার্তা নিয়ে। মুসলমানদের দুইটি ঈদ রয়েছে। যথাঃ ১) ঈদ-উল-ফিতর ও ২) ঈদ-উল-আযহা। এই দিন দুইটিতে ধনী-গরিবেরা নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। ঈদ-উল-ফিতর এর দিন দান-সাদাকা করা হয়, যাকাত দেওয়া হয়। যার কারণে গরিবদের সকলের ঘরে আনন্দ থাকে। তারা অনেকটা হলেও স্বচ্ছলতা পায়। ঈদ-উল-ফিতর এর দিন কাজী নজরুলের লেখা ও শিল্পীদের কণ্ঠে ভেসে আসে,
         " ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ,

    তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ

    সোনা-দানা বালা খানা সব ....."


    রমজান মাসের শেষে শাওয়াল মাসের ১ তারিখ পালন করা হয় ঈদ-উল-ফিতর। আবার জিলহয মাসের ১ তারিখ পালন করা ঈদ-উল-আযহা। ঈদ-উল-আযহায় পশু কুরবানি করা হয়। গোশত ভাগ করে দেওয়া হয় গরীব-দুঃখীদের মধ্যে।  একে বলা হয় আত্ব্যাগের ঈদ। দুই ঈদেই সকলে নতুন পোশাক পরিধান করে ও গরিবদের নতুন পোশাক দেয়। যাতে সকলের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করে। নামাজের পরে কোলাকুলি করা হয়। নিযে খেয়ে ও অন্যকে খাইয়ে ভাগ করে নেওয়া হয় আনন্দ।

    বৈসাবি

    বৈসাবি বাংলাদেশে তিন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বর্ষবরণ উৎসবকে বলা হয় বৈসাবি। এই শব্দটি বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু এই তিন উৎসবের প্রথম অক্ষর থেকে নেওয়া। এই উৎসবগুলো যথাক্রমে ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা জনগোষ্ঠীর। এই উৎসবগুলোর প্রথম অক্ষরগুলো মিলে বৈসাবি শব্দটি উদ্ভত। সাধারণত বছরের শেষ দুই দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন বাংলাদেশের বান্দারবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বিভিন্ন পার্বত্য জেলায় পালন করা হয় এই উৎসবটি।

    নবান্ন উৎসব

    নব+অন্ন= নবান্ন। অর্থাৎ নবান্ন হলো নতুন ধানের উৎসব। হেমন্তকালে প্রত্যেক বাঙালির ঘরে ঘরে নতুন ধান উঠে। গ্রামবাংলার প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিরাজ করে আনন্দ ও পিঠাপুলির ধুম পরে যায় চারদিকে। আত্নীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে ঘরে ঘরে এই উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়।

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

    আমাদের ভাষা বাংলা। পৃথিবীতে আমরাই একমাত্র জাতি যারা কিনা ভাষার জন্য জীবণ দান করেছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানিরা ক্ষমতা লাভের পর সর্বপ্রথম আঘাত হানে আমাদের মাতৃভাষা বাংলার উপর। কিন্তু বাঙালিরা তা মেনে নেয় নি। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রয়া্রীতে ১৪৪ ধারা জারি ভেঙে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে রফিক, সালাম, জব্বার, বরকতসহ আরো অনেকে শহীদ হয়। তাদের এই আত্নত্যাগ ও দীর্ঘ সংগ্রামের পর আমরা আমাদের ভাষা বাংলা পেয়েছি। তাদের কারণে আমরা ১৯৫৪ সালে বাংলা ভাষার আনুষ্ঠানিক স্বিকৃতি পেয়েছি। শহীদদেরকে শ্রদ্ধা ও স্বরণ করতে পরের বছর থেকেই দিনটি উদযাপন হয়ে আসছে। খালি পায়ে শহীদ মিনারে, শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভার মাধ্যমে শহীদদেরকে স্বরণ করা হয়। পাশাপাশি তাদের আত্নার মাগফেরেতের জন্য দোয়া চাওয়া হয়। বাঙালিরা সাধারণত তাদেরকে এই গানটি দ্বারা স্বরণ করে-
    "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রয়ারী-
    আমি কী ভুলিতে পারি।"
    ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো একুশে ফেব্রয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তার পরের বছর অর্থাৎ ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশ এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে।               

    স্বাধীনতা দিবস ও আমাদের জাতীয় দিবস

    ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। এই দিনের প্রথম প্রহরে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। মূলত ১৭৯১ সালে ৭ই মার্চের ভষণে স্বাধীনতা অর্জনে উদ্ভদ্ধ করেন। তবুও আনুষ্ঠানিকভেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্র বাঙলির উপর আক্রমন চালানোর পর ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। পৃথিবীর মানচিত্রে ঘটে নতুন স্বাধীন, সার্বভৌম দেশের আবির্ভাব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করা হয় এই দিনটি। সরকারি ও বেসরকারি সব উদ্যোগে এটি পালন করা হয়ে থাকে। সকল জায়গায় উড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা। জাতীয় সৃতিসৌধসহ সকল সৌধতে ফুল প্রদান করে স্বরণ করা হয় শহীদদেরকে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বাহিনীর কুচকাওয়াজ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপণ করা হয়।
     
    আরো পড়

    বিজয় দিবস

    ১৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে বাঙালিরা পাকিস্তানি দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সর্বাত্নক আন্দোলন গড়ে তোলে। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের বিজয়। এই  দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের ও আনন্দের। এই দিনটি যেমনি খুশির তেমনিভাবে অনেক কষ্টের। কেননা ৩০ লক্ষ মানুষ এই স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবণদান করে। এইদিনও দেশের সকল জায়গায় পতাকা শোভা পায়। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বাহিনীর কুচকাওয়াজ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সৌধগুলোতে অর্পণ করা হয় ফুল ও শহীদদেরকে জানানো হয় শ্রদ্ধা। এইভাবেই পালিত হয় বিজয় দিবস।

    বইমেলা

    বর্তমানে বইমেলা বাংলাদেশের আরেকটি প্রধান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়ছে। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে আয়োজন করা হয় বইমেলার। কিন্তু সবচেয়ে বড় করে ১ মাস জুড়ে ঢাকায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে পালন করা হয় বইমেলা। যা অমর একুশে বইমেলা নামে পরিচিত। এই বইমেলায় পাঠক ও লেখকের মিলনমেলা ঘটে। লেখকরা তাদের নতুন নতুন বইও প্রকাশ করেন ও পাঠকেরা নতুন নতুন বই পেয়ে অনেক খুশি হন। বর্তমানে বইমেলায় কেবলমাত্র বই কেনাবেচা নয়, পরিণত হয়েছে একটি বড় সাংস্কৃতিক উৎসবে।

    উপসংহার

    এসকল উৎসব আমাদের বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও হতিহাস বহন করে। আমাদের বাঙালিরা একটি লড়াকু জাতি ও আমাদের একটি প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। এটি আমাদের উৎসবগুলোর প্রতি নজর দিলেই লক্ষ করা যায়। আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি, ভালোবাসি আমাদের সংস্কৃতিকে। তাই আমরা বাংলাদেশের সংস্কৃতিগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সকল উৎসবে অংশগ্রহণ করবো ও সকলের সাথে উৎসবগুলোর আনন্দ ভাগাভাগি করে নিব।
    সকলকে ধন্যবাদ।

    অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

    2 Comments

    দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

    নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া