onurag.com https://www.onurag.com/2021/08/online-income-system.html

অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি

 অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি।

অনলাইন ইনকাম বর্তমানে  অনেক জনপ্রিয় একটি জিনিস। এর মধ্য দিয়ে অনেকে স্বাবলম্বী হচ্ছে। তাই এই পোস্টে অনলাইন ইনকাম পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি
অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি
অনলাইন থেকে ইনকাম! এটি কী সম্ভব? আমরা শুধু শুনেই আসছি। এটি কী বাস্তবে সম্ভব? 
হ্যাঁ, অনলাইন থেকে আয় অবশ্যই সম্ভব। 
আপনারা মনে মনে বলবেন, কই কতো অ্যাপ্সেই তো চেষ্টা করলাম। কিছু তো পেলাম না।
আমার উত্তর হলো, পাবেন কী করে। কেননা অধিকাংশ আর্নিং অ্যাপ্সই হলো স্ক্যাম অর্থাৎ প্রতারণা করে নিজেদের লাভ করে গ্রাহকদেরকে পেমেন্ট না দেওয়া। তবে আমি সব অ্যাপ্স এর কথা বলছি না। বিশেষ করে খেয়াল করবেন অনেক পিটিসি সাইট আছে যারা অ্যাড দেখায় আপনাদের ও কিছু নিদৃষ্ট কয়েকটা অ্যাডের পর ক্লিক করতে বলে। এতে ওদের লাভ ও আয় হচ্ছে। কিন্তু আপনাকে অনেক অ্যাপ্সই টাকা না দিয়ে তাদের মার্কেট বন্ধ করে দিচ্ছে। যারা অনলাইন থেকে আয়ের সঠিক উপায় না জেনে আলগা লাফায় তারাই মুলত প্রথমে এরূপ প্রতারণার শিকার হয়ে থাকে। বিশ্বাস করেন, আমি নিজেও অনেক অ্যাপ্স এ চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিনিময়ে তেমন কিছু হয়নি বরং সময় নষ্ট করা হচ্ছে। তাই বলে মনে করছেন, আমি বুঝি ঐ অ্যাপ্স এ কাজ করা বন্ধ করার থেকে অন্য কাজ করে অনলাইন থেকে অনেক টাকা আয় করে ফেলেছি? সেটা আদৌ না। কেননা আমি বর্তমানে যা করছি তা হচ্ছে ব্লগিং এবং আমি এখনো অ্যাডসেন্স পাইনি। তাই আমার ইনকাম এখনো শুরু হয় নি। ইনশাআল্লাহ আমি সেটা পেলে আমারও আর্নিং শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু আমি ব্লগে লিখি টাকার জন্য শুধু! তা কিন্তু নয়। এটা আমার শখও বলতে পারেন। যাহোক, ব্লগিংকে প্রোফেশনালভাবেও নেওয়া যায় এবং ভালো পরিমাণ টাকা আয় করা যায়। শুধু ব্লগিং না আজকের এই পোস্টে আমি সেরা কয়েকটা অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি সম্পর্কে জানাবো। আশা করি মনযোগ সহকারে পড়বেন।
আপনি কি আমার মতো একজন ছাত্রমানুষ বা একজন চাকুরিজিবী? কোন সমস্যা নেই। এই পোস্ট থেকে আপনি আশা করি আপনার জন্য সেরা একটি অনলাইন আয়ের মাধ্যম বেছে নিতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
আর বকবক না করে চলুন শুরু করা যাক। 

ব্লগিং করে ইনকাম (Income by Blogging)

আনলাইন ইনকাম পদ্ধতির জন্য ব্লগিং অন্যতম সেরা এবং ক্রিয়েটিভ একটি জনিস। শাব্দিক অর্থে ব্লগ হচ্ছে ব্যক্তিগত দিনলিপি বা বলতে পারেন অনেকটা ব্যক্তিগত ডায়েরির মতো। এখন ভাবতে পারেন ব্যক্তিগত ডায়েরি লিখেও আবার ইনকাম করা যায়? উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ। কিন্তু আপনি-আমার মতো অতি সাধারণ লোকের ব্যক্তিগত জীবণ নিয়ে কেউ পড়তে আসবে না। এই ব্লগিং করার ক্ষেত্রে মানুষের দুই উদ্দেশ্যে থাকতে পারে। একটি হলো শখ এবং আরেকটি হলো টাকা ইনকাম। আপনি কী করতে চান? আমি নিশ্চিত যে আপনি অবশ্যই ইনকাম করতে চান। যেহেতু আপনি অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি লিখে গুগলে সার্চ করেছেন বা আমার এই পোস্টের টাইটেল এ ক্লিক করেছেন।
যাহোক, আপনি যেহেতু প্রফেশনাল্ভাবে ব্যপারটা নিবেন বা আপনার যেহেতু ইনকাম করার ইচ্ছা, তাই আপনাকে ভালো করে শুরু করতে হবে।
অর্থাৎ এক কথায় বলতে ব্লগিং বলতে লেখালেখিকে বোঝায়। যারা ব্লগিং করে তাদেরকে বলা হয় ব্লগার। 

কীভাবে শিখবো লেখালেখি?

ব্লগিং একটি ক্রিয়েটিভ জিনিস এবং আপনাকে সেটি প্র্যাকটিসের মাধ্যমে ভালো করে শিখতে হবে।
আমি নিজেও একজন ব্লগার। আমি কন্টেন্ট লেখার মাধ্যমে এটি আর ভালো করে আয়ত্ব করার চেষ্টা করছি। যত বেশি আমি লিখবো ততো আমার অভিজ্ঞতা হবে এবং আস্তে আস্তে কন্টেন্টগুলো অনেক প্রফেশনাল হবে। আপনার ক্ষেত্রেও তাই কিন্তু। এটা সবসময় মনে রাখবেন, অভিজ্ঞতার কাছে কিন্তু প্রতিভাও হেরে যায়। আশা করি এর আর উদাহরণ দিতে হবে না। তাই ব্লগিং করার সময় অবশ্যই আপনাকে লেখার চর্চা করতে হবে। ভুল হলে হোক! আপনাকে লিখতে হবে, কী-বোর্ড চাপতে হবে। তাহলেই কেবল আপনি ভালো লিখতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

কোন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে শুরু করবো?

আপনার কাছে কি যথেষ্ট টাকা আছ? আপনার কাছে যথেষ্ট টাকা থাকলে ওয়ার্ডপ্রেস অবশ্যই আপনার জন্য উত্তম হবে। এখানে আপনি অনেক সু্যোগ সুবিধা পাবেন। যেকোন সমস্যা অতি সহযে সমাধান করতে পারবেন। এক কথায় ব্যপারটি অনেক সহজ পাশাপাশি কাস্টম বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার তো কোন অভাবই নেই। তাই আপনার কাছে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা থাকলে অবশ্যই ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা করা উচিত।
ওয়ার্ডপ্রেসঃ https://wordpress.com/
আপনার কাছে যদি যথেষ্ট পরিমাণ টাকা না থাকে তবে অবশ্যই ব্লগার আপনার জন্য সেরা। কিন্তু ব্লগারে সেসকল সু্যোগ সুবিধা পাবেন না, টা পাবেন ওয়ার্ডপ্রেসে। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ফ্রি এবং এটি গুগলের নিজস্ব।
ব্লগারঃ https://www.blogger.com/

আপনি ব্লগারে ডোমেইন এবং হোস্টিং ফ্রি তে পাবেন। কিন্তু আপনি ইচ্ছা করলে ব্লগারে কাস্টম ডোমেইন ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু ওয়ার্ডপ্রেসে আপনাকে ডোমেইন হোস্টিং কিনতে হবে যদি প্রোফেশনালি শুরু করতে চান। এই ডোমেইন, হোস্টিং, কীভাবে সাইট খুলতে ইত্যাদি নিয়ে পরে আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ।

ব্লগিং সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ঃ

ব্লগিং করার জন্য আপনাকে এই বিষয় নির্বাচন করতে হবে যে, আপনি কোন বিষয় বা ভাষায় ব্লগিং করতে চান। তবে আগেই বলে রাখি ইংরেজি সাইটে বাংলা সাইটের তুলনায় কয়েকগুণ আর্নিং করতে পারবেন। আপনি আপনার ব্লগে মূলত গুগল অ্যাডসেন্সের অ্যাড বসিয়ে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইত্যাদিসহ আরো অনেক উপায়ে উপার্জন করতে পারবেন।
আশা করি ব্লগিং সম্পর্কে মোটামোটি ভালো একটা ধারণা পেয়েছে। ভবিষ্যতে এই সাইটে ব্লগ সাইট খোলা কাস্টমাইজেশন ইত্যাদি নিয়েও কন্টেন্ট লিখা হবে। আপনি যদি ক্যরিয়ার হিসেবে ব্লগিং সিলেক্ট করে থাকেন তবে আপনার জন্য রইলো শুভকামনা। লেগে থাকেন, ভালো আর্নিং করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে ইনকাম ( Income by Freelancing)

অনলাইন ইনকাম পদ্ধতির অন্যতম সেরা একটি উপায় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিল্যান্সিং কথাটি অনেকের কাছে পরিচিত আবার অনেকের কাছে অপরিচিত মনে হতে পারে। কিন্তু আউটসোর্সিং কথাটি বেশিরভাগ মানুষের কাছেই পরিচিত। অনেকে মনে করে দুইটা এক জিনিস। মূলত ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এক কথা নয়। ফ্রিল্যান্সিং হলো গ্রাহক বা ক্লায়েন্টের কাজ করে তার কাছ থেকে নিদৃষ্ট পরিমাণ অর্থ নেওয়া। কিন্তু আউটসোর্সিং হচ্ছে অন্য কারো মাধ্যমে নিজের কাজ করিয়ে নেওয়া। আউটসোর্সিং শব্দটি থেকেই কিন্তু বিষয়টি অনেকটা বোঝা যায়। অর্থাৎ যারা অন্যদের মাধ্যমে কাজ করায় তাদের কাজটিকে বলা হয় আউটসোর্সিং এবং তাদেরকে বলা হয় আউটসোর্সার। কিন্তু যারা আউটসোর্সিং এর কাজ করে দেয় তাদেরকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সাররা আউটসোর্সারদের কাজ করে। আর ফ্রিল্যান্সারদের পেশাটাকে বলে ফ্রিল্যান্সিং। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
বর্তমান সময়টাতে ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে মানুষ সবচেয়ে বেশি আয় করছে। বাংলাদেশের অনেক বড় বড় ফ্রিল্যান্সার আছে যারা অনেক টাকা আয় করছে। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে যেমন নিজের আয় হয় তেমনিভাবে দেশও সমৃদ্ধি লাভ করে।
মূল কথা হলো, বললেই তো আর হু করে ফ্রিল্যান্সিং এ নেমে পরা যাবে না। এজন্য আপনাকে কোন না কোন বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে বা কাজ জানতে হবে।
যে যে ধরণের কাজ আপনি করতে পারবেন-
  • ওয়েব ডিসাইন।
  •  গ্রাফিক্স ডিসাইন।
  • কন্টেন্ট রাইটিং।
  • ভিডিও এডিটিং।
  • ছবি এডিটিং।
  • ডাটা এন্ট্রি।
  • এসি ই ও। 
  • মাইক্রোসফট এক্সেলের কাজ।
  • মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্টের কাজ।
এগুলো ছাড়াও আরো অনেক অনেক কাজ আছে যা আপনি করতে পারবেন। কিন্তু আপনাকে পারদর্শী হতে হবে। কেননা গ্রাহক বা ক্লায়েন্ট কাজ করার পর আপনাকে রেটিং দিবে এবং আপনার কাজ সম্পর্কে মন্তব্য করবেন। সেখানে যদি আপনি খারাপ রেটিং পান তবে আপনার জন্য কাজ পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে যাবে। 
আমরা সকলেই জানি ইংরেজি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাষা। আপনার ক্লায়েন্ট তো অবশ্যই ফরেনার বা বিদেশী হবে। তার কাজ করার সময় তো আপনার তার কী সমস্যা বা কী কাজ করতে হবে তা আপনাকে বোঝতে হবে। আর সে তো অবশ্যই বাংলা ভাষা বলবে না। যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করবে ইংরেজি ভাষা। তাই আপনাকে ইংরেজি ভাষার উপর কিছুটা দক্ষতা থাকতে হবে। তাই বলে মনে করবেন না আমি বলছি যে, একেবারে আপনি এইইএলটিএস করে আসুন তা না। আপনার ক্লায়েন্টের কথা ভালোকরে বুঝতে পারলে এবং ক্লায়েন্টকে বোঝাতে পারলেই হবে। আর আশা করি এজন্য মাধ্যমিল লেভেলের ইংরেজিই যথেষ্ট। তাছাড়া গুগল ট্রানসলেট ত আছেই আপনাকে সাহায্য করার জন্য। ভালো করে না বুঝলে এর সাহায্য নিতে পারবেন পরবর্তী সময়ে।
কীভাবে কাজ পাবো বা আদৌ কাজ পাবো? এমন প্রশ্ন আপনার মনে অনেকবার আসতে পারে। আপনি যদি কোন এক বিষয়ে দক্ষ হোন এবং কয়েকটা ক্লায়েন্টের কাজ ভালো করে করতে পারেন, তবে তারা আপনাকে ভালো রিভিও দিবে। এরপর আপনার কাজের আর অভাব হবে না। অপরদিকে, কোন ক্লায়েন্টের যদি বড় কোন একটা কোম্পানি থাকে এবং যদি সে আপনার কাজে সন্তুষ্ট হয় তবে সে আপনাকে তার কোম্পানির জন্য একটি নিদৃষ্ট সময়ের জন্য হায়ার করে রেখে দিবে। অর্থাৎ আপনি ভালো কাজ করতে পারলে ক্লায়েন্ট ধরে রাখতে পারবেন এবং সেখান থেকে অনেক ভালো পরিমাণে উপার্জন করতে পারবেন।
ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস রয়েছে। আজকে এই পর্যন্তই। এটি নিয়ে আরেকটি পোস্ট লিখা হবে। দেখতে নজর রাখুন এই সাইটে।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া