onurag.com https://www.onurag.com/2021/03/childhood%20of%20prophet%20muhammad.html

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর শৈশব ও কৈশোর

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর শৈশব ও কৈশোর

আমরা মানুষ। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর আমাদের  ধর্ম ইসলাম। আর আমাদের নবি হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ  (সাঃ)। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁকে আমাদের জন্য আদর্শ  হিসেবে বানিয়েছেন। এই মহান ব্যক্তির জীবণ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা আমাদের কর্তব্য। আর তাই আজ আমরা এই মহান ব্যক্তির  শৈশব ও কৈশর সম্পর্কে ধারণা লাভ করবো ও বিস্তারিত জানবো।

    মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর শৈশব ও কৈশর।

    মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর শৈশবঃ

    মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল আবদুল্লাহ এবং মাতার নাম ছিল আমিনা। তিনি তার মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় পিতাকে হারান এবং তিনি মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থাই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। আর এই ঘটনা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাতা বিবি আমিনা নিজ মুখে বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি এমন ছিলো যে,

    "মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে বিবি আমিনা গৃহমধ্যে সম্পূর্ণ একাকিনী ছিলেন। হঠাৎ তিনি আকাশের দিক হতে একটা প্রচন্ড আওয়াজ শুনতে পেয়ে অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। পরক্ষণেই একটি অবিকল মুরোগাকৃতির একটি পাখি উড়ে এসে তাদের ঘরে প্রবেশ করল এবং তার পালক দুইটি বিবি আমিনার মস্তক স্পর্শ করল। আর তাতে বিবি আমিনার অন্তর হতে সমস্ত প্রকার ভয়-ভীতি দূর হলো এবং তিনি বেশ আনন্দ ও আরাম বোধ করতে লাগলেন। তখন মোরগটি কিছু মিষ্টিজাতীয় জিনিস বিবি আমেনার মুখে ঢুকিয়ে দিল। বর্ণান্তরে আরো এমন ঘটনা ও তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আরো ঘটনা দেখা যায়।"

    মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে জন্মের পর সর্বপ্রথম চাচা আবু লাহাবের দাসী সোয়েবা তাকে মাতৃস্নেহে কিছু সময় লালন-পালন করেন। তারপর শিশু মুহাম্মাদকে বিবি হালিমার  কাছে পাঠানো হলো। তিনি সেখানে বড় হলেন ও থাকতে শুরু করলেন। আর ছোটবেলা থেকেই তিনি রাখেন তার আদর্শের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কেননা মাতা হালিমার কাছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছাড়াও আরেকজন দুধ পান করতেন। আর সেই শৈশবে মহাম্মদ (স:) তার দুধ্মাতা হালিমার এক স্তনের দুধ পান করতেন ও অপর স্তনের দুধ তার ভাইয়ের জন্য রেখে দিতেন। যখন থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বিবি হালিমার ঘরে গেলেন তখন থেকে বিবি হালিমার ঘরে উন্নতি ও সুখের ছায়া দেখা দেয়। তখনই অনেকে হয়তো এটা বুঝতে পেরেছিলেন যে, এটা কোন সাধারণ শিশু নয়। আর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর বিবি হালিমার এতো মায়া মনে গেথেছিলো যে তিনি তাকে দিতে চাচ্ছিলেন না। তবুও অন্যের সন্তান তিনি কোন অধিকারেই বা রাখেন? এই কথা বিবেচনায় তিনি শিশু মুহাম্মদকে তার মাতা আমিনার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। মাতা আমিনা অনেক আদর সোহাগে তাকে লালন পালন করতে থাকে। কিন্তু মায়ের আদর তার বেশিদিন তার কপালে স্থায়ী হলো না। মাত্র ছয় বছর বয়সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তার মাতাকে হারান। এবার পিতা-মাতা দুজনকেই হারিয়ে তিনি এতিম হয়ে গেলেন। এরপর তিনি তার দাদা আব্দুল মুত্তালিবের স্নেহ ও ভালোবাসায় বড় হতে থাকেন। কষ্টের ব্যপার এই যে, দাদার আদরও তার কপালে বেশিদিন জোটেনি। মাত্র আট বছর বয়সে মারা যান তার দাদা। এরপর তার লালনপালনের দায়িত্ব চাচা আবু তালিবের হাতে পরে ও চাচা আবু তালিবের আশ্রয়ে তিনি বড় হতে থাকেন।

    মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কৈশোর।

    আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব মারা যাবার পর চাচা আবু তালিবের উপর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর লালন পালনের দায়িত্বভার পরে। কিন্তু তার চাচার আর্থিক অবস্থা ভালো ছিলো না। অপরদিকে কিশোর মুহাম্মদ (সাঃ) অনেক কর্মঠ ছিলেন। তিনি কারো গলগ্রহ হয়ে থাকা একদম পছন্দ করতেন না। তিনি তার চাচার অসচ্ছল পরিবারের আর্থিক অবস্থার কিছুটা উন্নতির জন্য হলেও সাহায্য করতেন। বাড়তি আয়ের জন্য রাখালদের সাথে ছাগল-মেষ চরাতেন। আর রাখাল বালকদের জন্য তিনি ছিলেন আদর্শ। অর্থাৎ আমরা বলতে পারি আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যে অঙ্গনে একবার হাত দিয়েছেন তা যেন সোনাতে রূপান্তরিত হয়েছে। রাখালদের সাথে তিনি সবসময় ভালোবাসা,সৌহার্দ্য সম্প্রীতি বজায় রাখতেন। আর রাখালদের মধ্যে কোন প্রকার ঝগড়া-বিবাদ হলে তিনি  পালন করতেন বিচারকের ভূমিকা। তিনি তার চাচার ব্যবসা-বাণিজ্যেও সহায়তা করতেন। একবার চাচার সাথে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়াও গিয়েছিলেন। এ সময় বহিরাগত এক পাদ্রির সাথে দেখা হয়। সেই বহিরাগত পাদ্রি তাকে অসাধারন বালক ও শেষ ববি হিসেবে ভবিষ্যতবাণী করেন। আর সেই পাদ্রি আবু তালিবকে এ ব্যপারে সাবধানও করেন। কারণ শত্ররা তার ক্ষতি করতে পারে।

    সিরিয়া থেকে ফেরার পথে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ফিজার যুদ্ধের বিভীষিকা প্রত্যক্ষ করে আঁতকে ওঠেন। আর আমরা অনেকেই হয়তো জানি এই যুদ্ধ ওকায মেলায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে হয়েছিলো। কায়স গোত্র অন্যায়ভাবে এ যুদ্ধ কুরাইশদের উপর চাপিয়ে দেয়। আর এজন্য একে 'হারবুল ফিজার' বা অন্যায় সমর বলা হয়। আর এই যুদ্ধ চলে দীর্ঘ ৫ বছর। অনেক মানুষ আহত নিহত হয়। আর যুদ্ধের এই করুণ পরিস্থিতি কিশোর মুহাম্মদের মনে আঘাত হানে। আর তিনি অস্থির হয়ে পড়লেন।
    আর এসকল যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি রোধ ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে গড়ে তোলেন 'হিলফুল ফুজুল' বা শান্তি সংঘ। আর এর উদ্দেশ্য ছিল-
    ১/ আর্তের সেবা করা।
    ২/ অত্যাচারীকে প্রতিরোধ করা,।
    ৩/অত্যাচারিতকে সাহায্য করা।
    ৪/শান্তি-শ্রিঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা ও
    ৫/গোত্রে গোত্রে সম্প্রীতি বজায় রাখা।

    আর তিনি তার প্রচেষ্টায় সফলতা লাভ করেন। আর সেদিনের শান্তিসংঘের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আজও আমাদের কিশোর ও যুব সমাজ নিজেদেরকে এসকল মহৎকাজে নিয়োজিত করতে পারে।

    অপরদিকে আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নাম 'আস-সাদিক' বলে চারদিকে ছড়িয়ে পরে।  'আস-সাদিক' অর্থ সত্যবাদী। তছাড়া তিনি 'আল-আমিন' বা বিশ্বাসী বলে পরিচিতি লাভ করেন। আর লোকজন তার কাছে আমানত রাখতো। আমাদের সকলের শৈশব ও কৈশর আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মতো হওয়া উচিত। তার আদর্শে যদি আমরা চলতে পারি তবে দেশ ও জাতির সুনাম বয়ে আসবে এবং কোনপ্রকার মারামারি,কাটাকাটি,হানাহানি ইত্যাদি থাকবে না। তাছাড়া মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে আমাদের মানবজাতির সেরা শিক্ষক ও আদর্শ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আর তাই আমরা তাকে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করবো ও সুন্দর জীবণ গড়ে তুলবো।

    আমাদের নবি করিম (সাঃ) এর কিশোর বয়সে বিচক্ষণতার ঘটনাঃ

    আমাদের মহান নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তার কিশোর বয়সে এক বিচক্ষণতার প্রমাণ দেখিয়েছিলেন। তখনকার সময় কুরাইশরা কাবাঘর সংস্কারের কাজ হাতে নিল। যথারীতি কাবাঘর সংস্কারের কাজ করলো তারা। কিন্তু একটা সমস্যা ঘটেছিল তখন। 'হাজরে আসওয়াদ' বা 'কালো পাথর' স্থাপন নিয়ে লেগে গেল বিবাদ। প্রত্যেক গোত্রই চাচ্ছিলো তাদের নিজেদের সুনাম ও ইতিহাসের পাতায় তাদের নাম লেখানো। তাছাড়া পরকালে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভ করার জন্যও অনেক গোত্রই তা চাচ্ছিলো। আর তখন এ নিয়ে প্রায় যুদ্ধের মতো অবস্থা বিরাজ করে। তখন তারা সিদ্ধান্ত নেয় যারা কাবা শরীফে আগে প্রবেশ করবে তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। তখন আমাদের নবি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সে জায়গায় গেলেন ও তাকে এ সমস্যা সমাধান করতে বললো সকলে। তিনি বললেন একটা চাদরের মধ্যে পাথরটা রেখে সকলে মিলে পবিত্র কাবা ঘরে স্থাপণ করতে। আর যাতে সকলেরই অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। আর নবি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সিদ্ধান্তে তা করা হলো। আর যাতে মক্কাবাসী এক ভয়ংকর যুদ্ধ হতে বেঁচে গেল।
    হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আমাদের নবি। গোটা ইসলামের নবি। আমরা সকলে তাকে ও তার আদর্শে অনুসরণ করবো ও সুন্দর জীবণ গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।

    অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

    2 Comments

    দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

    নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া